সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম

সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। কোন জমি যদি সরকারের হাতে নষ্ট হয় এবং সেই জমিগুলো যদি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে তাকে খাস জমি বলে। সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। আশা করি আজকের এই আর্টিকেল থেকে সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারবেন।

কনটেন্ট সূচিপত্রঃ সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম

সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম - খাস জমি দখলের নিয়ম

কোন জমি যদি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয় এবং সেই জমি গুলি যদি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সরকার এই জমি গুলি সরকার কর্তৃক প্রণীত পদ্ধতি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারে তাহলে উক্ত জমিগুলোকে খাস জমি বলে। আমরা অনেকেই সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম জানিনা। আজকের এই আর্টিকেলে খাস জমি দখলের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আরো পড়ুনঃ ছাত্রদের টাকা আয় করার ২০ টি সেরা কার্যকরী উপায়

খাস জমি দখলের নিয়ম কৃষি খাস জমি সাধারণত ভূমিহীনরা বন্দোবস্ত পাওয়ার অধিকার সেজন্য জেনে নেওয়া দরকার কারা ভূমিহীন হিসেবে গণ্য হবে। তুমি বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী যেসব পরিবার ভূমিহীন বলে গণ্য হবেন সেসব পরিবারের। বসতবাড়ি ও কৃষি জমি কিছুই নেই কিন্তু পরিবারটি কৃষি নির্ভর।

তবে একটি উপজেলায় ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা অনেক খাকতে পারে । সবাইকে একসাথে জমি দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ সেই উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ খাস জমি নাও থাকতে পারে। খাস জমি থাকলেও দেখা যায় দেওয়ানি আদালতে মামলা মোকদ্দমা থাকার কারণে বন্দোবস্ত দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া সকল শ্রেণীর খাস জমি বরাদ্দ দেয়া যায় না।

যারা খা জমি পাওয়ার অগ্রধিকার রাখে তারা হলেনঃ

১। দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

২। নদীভাঙা পরিবার

৩। সক্ষম পুত্রসহ বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা পরিবার

৪। কৃষি জমিহীন ও বাস্তুভিটাহীন পরিবার

৫। অধিগ্রহণের ফলে ভূমিহীন পরিবার

৬। যে পরিবারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত বসতবাড়ী আছে

সরকারি জমি লিজ নেয়ার ফরম - অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত ফরম

ইতিমধ্যেই আমরা সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম জেনেছি। অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত ফরম সম্পর্কে জানব। সরকারি অফিসার জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য ৫ টাকার কোর্ট ফি দিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট দরখাস্ত দাখিল করতে পারবেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক এর নিকট দাখিল করতে আবেদনপত্র প্রাপ্তির জমির যে উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য বন্দোবস্ত চাওয়া হয়েছে তা ব্যতিরেকে অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না মর্মে অঙ্গীকার নামা এফিডেভিট দাখিল করতে হবে।

কোন জমি যদি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয় এবং সরকার এই জমি গুলি সরকার কর্তৃক প্রণীত পদ্ধতি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারেন অথবা অন্যকোন ভাবে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে উক্ত ভূমি গুলিকে খাস জমি বলে অনেকের সরকারি জমি লিজ নেয়ার ফরম দরকার হয়। খাস জমে বাস্তবায়নের সংক্রান্ত সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি লিজ নেয়ার ফরম। আশা করি অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত ফরম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

খাস জমি কত প্রকার

সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম জানার সাথে সাথে আমাদেরকে খাস জমি কত প্রকার? এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। ১৯৮৭ সালে খাস জমি বাস্তবায়ন বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ঘাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে প্রদান করা হয়েছে। সংশোধন করে ১৯৯৭ সালে খাসজমিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় পেমেন্ট বিকাশে মাসে ১৫০০০

  • কৃষি খাস জমি
  • অকৃষি খাস জমি

১। চা বাগান, রাবার বাগান, চিংড়ি চাষের জমি

২। সর্বসাধারণের ব্যবহার্য জমি যেমন রাস্তা, খাল, ঘাট ইত্যাদি

৩। জেগে উঠা চরের জমি

জমি লিজ নেওয়ার চুক্তিনামা pdf

সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম জানার পরে আমাদেরকে অবশ্যই জমি লিজ নেওয়ার চুক্তিনামা pdf লিখতে পারি না। জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের সময় জমি লিজ নেওয়ার চুক্তিনামা pdf লেখা হয়। যার ফলে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে জানা আমাদের খুব জরুরী।

ঢাকা- মিরপুর

জমির পরিমান - ২৩ শতাংশ

মূল্য - ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা

মেয়াদ - ০২ বছর 

প্রথম পক্ষের নাম - মোঃ করিম উদ্দিন, পিতাঃ রহিম আলী, মাতাঃ শাহনাজ বেগম, জন্ম তারিখঃ ০৯/০৬/১৯৭৯ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র- ****209******, ধর্মঃ ইসলাম, পেশাঃ কৃষিকার্য্য, গ্রামঃ মিরপুর, পোঃ মিরপুর, উপজেলাঃ ঢাকা, জেলাঃ ঢাকা।

দ্বিতীয় পক্ষের নাম - মোঃ শাহীন, পিতাঃ সুমন আলী, মাতাঃ রহিমা বেগম, জন্ম তারিখঃ ১৭/০৭/১৯৭১ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র- ******394****, ধর্মঃ ইসলাম, পেশাঃ কৃষিকার্য্য, গ্রামঃ মিরপুর, পোঃ ঢাকা, উপজেলাঃ ঢাকা, জেলাঃ ঢাকা।

পরম করণাময় মহান সৃষ্টিকর্তার নামে ভূমি লীজ নামা চুক্তিপত্র দলিলের আইনানুগ বয়ান লেখা শুরু করিলাম। জেলাঃ ঢাকা, উপজেলাঃ ঢাকা এলাকাধীন মৌজাঃ ঢাকা মধ্যে আর এস- ৩১০ নং খতিয়ানে আর এস- ৬৪০ নং দাগে বাদশা আলী নামে ৩০ শতাংশ জমি রেকর্ডভূক্ত থাকা অবস্থা তাহার নিকট হইতে আমি বিগত ইংরেজি ১৯/১০/১০০৩ তারিখে একখন্ড কবলা পত্র দলিল মূলে ২২ শতাংশ জমি খরিদ পূর্বক প্রাপ্ত হইয়া স্বত্ববান মালিক ও দখলকার আছি।

আপনি দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদ করার জন্য আমি প্রথম পক্ষের নিকট প্রস্তাব করিলে, আমার নগদ টাকার বিশেষ প্রয়োজনে আপনি দ্বিতীয় পক্ষের প্রস্তাবে রাজি হইয়া নিম্ন লিখিত স্বাক্ষীগণের মোকাবেলায় আপনি দ্বিতীয় পক্ষের নিকট হইতে নগদ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা গ্রহণ করিয়া।

আমার স্বত্ব দখলীয় ২২ শতাংশ জমি অদ্য ১৬/০৩/২০২৩ ইং তারিখ হইতে আগামী তিন বৎসর মেয়াদে আপনার নিকট লীজ প্রদান করিয়া দখলাদি বুঝাইয়া দিয়া স্বীকার বা অঙ্গীকার করিতেছি যে, উক্ত জমি আপনি দ্বিতীয় পক্ষের নিকট লীজ থাকা কালিন আমি প্রথম পক্ষ অন্য কোথাও বিক্রয় বা হস্তান্তর করিতে পারিব না এমনকি আমি বা আমার কোন ওয়ারিশ কেহ কোন প্রকার দাবি দাওয়া করিতে পারিবে না।

ইতি সন- 

চুক্তি বা লীজকৃত ভূমির তফসিল- 

মৌজা-

সংগ্রহঃ landideabd.com

খাস জমি চেনার উপায়

সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম জানার আগে আমাদেরকে খাস জমি চেনার উপায় সম্পর্কে জানতে হবে। যে জমিগুলো সাধারণত সরাসরি সরকারের মালিকানাধীন থাকে সেগুলো খাস জমি হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ যে জমিগুলো কালেক্টরের নামে রেকর্ড থাকে সেগুলোই খাস জমি। খাস জমি চেনার উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ বাড়িতে বসে ২০ টি অনলাইন কাজ - বাড়িতে বসে ২০ উপায়ে ইনকাম

জেলা প্রশাসক বা ডিসি যখন জমি জমার বিষয়ে কাজ করেন তখন তাকে কালেক্টর বলে। অন্যন্য সংস্থার জমি সরকারের মালিকানায় থাকলে তাকে খাস জমি বলা হয় না। কারণ জমিগুলো যে সংস্থার মালকানায় থাকে সেই সংস্থার জমি বলেই ধরা হয়, যেমন রেলের জমি।

ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা কিছুটা সংশোধন করে ১৯৯৭ সালে খাসজমিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কৃষি খাস জমি, অকৃষি খাস জমি, চা বাগান, রাবার বাগান, চিংড়ি চাষের জমি, সর্বসাধারণের ব্যবহার্য জমি যেমন রাস্তা, খাল, ঘাট ইত্যাদি, জেগে উঠা চরের জমি।

সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়মঃ উপসংহার

সরকারি খাস জমি লিজ নেয়ার নিয়ম, খাস জমি চেনার উপায়, জমি লিজ নেওয়ার চুক্তিনামা pdf, অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত ফরম, সরকারি জমি লিজ নেয়ার ফরম, খাস জমি কত প্রকার? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনাদের বিষয়গুলো জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।

আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আবার দেখা হবে নতুন কোন তথ্যমূলক আর্টিকেলে। সেই পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকবেন ভালো থাকবেন ধন্যবাদ। ২০৮৭৬

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url